August 24, 2026, 4:27 pm

কুয়েতে খাদ্য সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

মধ্য এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গভীর বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে কুয়েতে ২৪০ টন শুভেচ্ছা খাদ্যসামগ্রী পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (২৫ মে) থেকে একাধিক বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় এই খাদ্যসামগ্রী কুয়েতে পৌঁছানো শুরু হবে।
চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে কুয়েতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বাংলাদেশের এই মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ বরাবর পাঠানো একটি অফিশিয়াল পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
পত্রে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সরকার জানিয়েছে, এটি একটি বৃহত্তর সহায়তা কার্যক্রমের প্রাথমিক ধাপ, যার আওতায় মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফ্লাইটে কুয়েতে পাঠানো হচ্ছে।

কুয়েত সফররত বাংলাদেশের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া)। এ ছাড়া কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনও এই দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

ঐতিহাসিক এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বেসামরিক বিমান চলাচলসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন উপখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও উভয় দেশ একমত পোষণ করেছে। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান কঠিন বাস্তবতায় কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের এই শুভেচ্ছা সহায়তা দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য প্রতিফলন।

এই বিভাগের আরও খবর


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের শুধু একার প্রস্তুতি নয়। আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী সব বাহিনীরও প্রস্তুতির দরকার আছে। নতুন সরকার এসেছে। সবাই প্রস্তুত হলে বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। সবাইকে নিয়েই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) ঝাঁপ দিতে হবে। সে জন্য কার্যক্রম চলছে। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘এক্সিকিউভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না। দিনক্ষণ অনেক ‘ফ্যাক্টরের’ ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন–সংশ্লিষ্টদের সবার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলে নির্বাচন হবে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কিছু আইন–বিধি সংশোধন করা হচ্ছে। ইসি প্রস্তাব তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ও আছে, কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি প্রয়োজন। সিইসি বলেন, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। তিনি জানান, বিদ্যমান আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা,পাবলিক পরীক্ষা—এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ইসি পুলিশের প্রস্তুতি, সারা দেশের অবস্থা, কত সংখ্যক পুলিশ দিতে পারবে—এসব বিষয় জানতে চেয়েছে। তাদের কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সিইসি বলেন, তারা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চেয়ে ভালো হবে, খারাপ হবে না। তিনি আশা করেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা সেটা করতে পারবেন।

ফেসবুকে আমরা